মেনু
Baki.bd
সব গাইড

প্রকাশিত · ৭ সেপ্ট ২০২৬

দোকানের স্টক ম্যানেজমেন্ট — কম পুঁজিতে বেশি বিক্রির হিসাব

স্টক ম্যানেজমেন্ট ইনভেন্টরি দোকান হিসাব

দোকানের সবচেয়ে বড় টাকাটা ক্যাশবাক্সে থাকে না — থাকে তাকের উপর। যে মালটা তিন মাস ধরে বিক্রি হচ্ছে না, সেটা আসলে আপনার আটকে থাকা পুঁজি। আর যে মালটা প্রতি সপ্তাহে ফুরিয়ে যায় অথচ অর্ডার দিতে দেরি হয়, সেটা প্রতি সপ্তাহে হারানো বিক্রি।

স্টক ম্যানেজমেন্ট মানে গুদাম গোছানো নয়। মানে হলো এই দুটো প্রশ্নের উত্তর সব সময় জানা: কোন টাকা আটকে আছে, আর কোন মাল ফুরানোর আগে অর্ডার দিতে হবে।

প্রথম ভুল: সব পণ্যকে সমান চোখে দেখা

একটা মুদি দোকানে দুইশো রকম পণ্য থাকতে পারে। কিন্তু বিক্রির ৭০–৮০ শতাংশ আসে বড়জোর ৩০–৪০টা পণ্য থেকে। এই কয়েকটাই আপনার দোকান। বাকিগুলো দরকার, কিন্তু ওদের জন্য মাথা ঘামানোর দরকার কম।

কাজেই শুরু করুন এভাবে:

  • নিয়মিত পণ্য — যেগুলো প্রতি সপ্তাহে ফুরায়। এগুলোর স্টক কখনো শূন্য হতে দেবেন না।
  • মাঝারি পণ্য — মাসে দু-একবার লাগে। মাসে একবার দেখলেই চলে।
  • পড়ে থাকা পণ্য — তিন মাসে একবারও বিক্রি হয়নি। এগুলোই আপনার আটকে থাকা টাকা।

তালিকাটা একবার বানিয়ে ফেললে বাকি কাজ অনেক হালকা হয়ে যায়।

রি-অর্ডার লেভেল: এক লাইনের নিয়ম

প্রতিটা নিয়মিত পণ্যের জন্য একটা সংখ্যা ঠিক করুন — এর নিচে নামলেই অর্ডার দেবেন। সংখ্যাটা বের করার সহজ নিয়ম:

রি-অর্ডার লেভেল = (দিনে গড় বিক্রি × মাল আসতে যত দিন লাগে) + দুই-তিন দিনের বাড়তি

ধরুন একটা সাবান দিনে গড়ে ৮টা বিক্রি হয়, আর ডিলারের মাল আসতে ৩ দিন লাগে। তাহলে ২৪টার সাথে বাড়তি ২ দিনের ১৬টা যোগ করে রি-অর্ডার লেভেল ৪০। স্টক ৪০-এ নামলেই অর্ডার — শূন্যের অপেক্ষা নয়।

এই একটা হিসাব ঠিকমতো করলে "মাল নাই" বলে কাস্টমার ফিরিয়ে দেওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

পড়ে থাকা মাল: যত তাড়াতাড়ি ছাড়বেন, তত কম ক্ষতি

তিন মাস না বিক্রি হওয়া মাল ছয় মাসে আরও কম দামে যাবে। এটাই নিয়ম, বিশেষ করে যেসব পণ্যের মেয়াদ আছে বা প্যাকেট বদলায়।

  • অল্প লাভে ছেড়ে দিন, দরকার হলে কেনা দামে।
  • নিয়মিত পণ্যের সাথে বান্ডিল করে দিন।
  • একই ডিলারের কাছে ফেরত বা বদল করা যায় কি না জিজ্ঞেস করুন — অনেকেই করে, শুধু কেউ চায় না বলে জানা হয় না।

আটকে থাকা টাকা ছাড়ানোর মানে হলো সেই টাকা দিয়ে যেটা আসলে বিক্রি হয় সেটা তোলা।

খাতায় স্টক রাখা কেন কঠিন

কাগজের খাতায় বিক্রি লেখা যায়, কিন্তু স্টক রাখা যায় না — কারণ প্রতিটা বিক্রির পর প্রতিটা পণ্যের সংখ্যা হাতে কমাতে হয়। ব্যস্ত দোকানে সেটা কেউ করে না, দিন দুয়েক পরেই হিসাব মেলে না, আর তারপর খাতাটার উপর বিশ্বাসও থাকে না।

এই একটা কারণেই স্টকের হিসাব সফটওয়্যারে রাখাটা সুবিধার: বিক্রি তুললেই স্টক নিজে থেকে কমে। আলাদা করে কিছু লিখতে হয় না, তাই ভুলও হয় না।

সফটওয়্যারে যা যা থাকা দরকার

স্টকের জন্য সফটওয়্যার বাছাই করলে এই কয়টা জিনিস দেখে নেবেন:

  1. বিক্রি করলেই স্টক কমে — দুইবার এন্ট্রি করতে হলে সেটা কেউ চালাবে না।
  2. কম স্টকের তালিকা — কোনগুলো অর্ডার দিতে হবে, এক স্ক্রিনে।
  3. ক্রয় এন্ট্রি — নতুন মাল ঢুকলে স্টক বাড়বে, আর সরবরাহকারীর পাওনাও উঠবে।
  4. স্টক অডিট — মাসে একবার গুনে মিলিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা। বাস্তবে হিসাব আর তাক সব সময় মেলে না; মেলানোর একটা পথ থাকা চাই।
  5. ফোনে চলে — গুদামে বসে গুনতে গুনতে ঢোকাতে পারা দরকার, ডেস্কে ফিরে নয়।

এক মাসের একটা রুটিন

  • প্রতিদিন — দিন শেষে বিক্রি আর আদায় মিলিয়ে নিন।
  • প্রতি সপ্তাহে — কম স্টকের তালিকা দেখে অর্ডার দিন।
  • প্রতি মাসে — নিয়মিত পণ্যগুলো গুনে হিসাবের সাথে মিলিয়ে নিন, আর পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা বের করে সিদ্ধান্ত নিন।

তিনটা অভ্যাস। এর বেশি কিছু ছোট দোকানের দরকার নেই, আর এর কমে হিসাব ঠিক থাকে না।

শেষ কথা

স্টক ম্যানেজমেন্টের পুরো ব্যাপারটা আসলে একটা প্রশ্নের উত্তর: আপনার টাকা কোথায় আছে? ক্যাশে, বাকিতে, না তাকের উপর। তিনটার হিসাব একসাথে দেখতে পারলে কোন মাল তুলবেন আর কোনটা ছাড়বেন — সিদ্ধান্তটা আর অনুমান থাকে না।

নিজের দোকানে চালিয়ে দেখবেন?

ফ্রি শুরু করুন, অথবা হোয়াটসঅ্যাপে দোকানের কথা বলুন — আমরা এসে সেটআপ করে দিই।