মেনু
Baki.bd
সব গাইড

প্রকাশিত · ৭ সেপ্ট ২০২৬

সার্ভিসিং ও ওয়ার্কশপের হিসাব — জব কার্ড দিয়ে যেভাবে গুছিয়ে ফেলবেন

সার্ভিসিং ওয়ার্কশপ জব কার্ড মেরামত

সার্ভিসিং ব্যবসায় বিক্রি হয় দুটো জিনিস একসাথে — কারিগরের সময় আর পার্টস। খাতায় সাধারণত শুধু শেষ অঙ্কটা ওঠে, তাই মাস শেষে দেখা যায় কাজ অনেক হয়েছে, টাকা তেমন থাকেনি।

আসল সমস্যা প্রায় সব সময় একই: কোন কাজে কত খরচ হলো, সেটার হিসাব নেই।

এর সমাধান একটাই, আর সেটা পুরনো — জব কার্ড।

জব কার্ড কী

প্রতিটা মেরামতের জন্য একটা করে কার্ড। সেটা কাগজেও হতে পারে, ফোনেও। যা থাকতে হবে:

  • জব নম্বর — কাস্টমারকে দেওয়া হয়, ফোন করলে এটাই বলে
  • কাস্টমারের নাম ও নম্বর
  • জিনিসটার বিবরণ — মডেল, সিরিয়াল/আইএমইআই, কী কী সাথে দিয়েছে (চার্জার, কভার)
  • কাস্টমার যা বলেছে সমস্যা হিসেবে
  • জমা নেওয়ার তারিখ, আর কবে দেওয়ার কথা
  • অগ্রিম কত নেওয়া হয়েছে
  • কার কাছে কাজটা দেওয়া হয়েছে
  • ব্যবহৃত পার্টস আর তার কেনা দাম
  • মজুরি
  • অবস্থা — জমা / দেখা হয়েছে / পার্টসের অপেক্ষা / ঠিক হয়েছে / ডেলিভারি

এইটুকু লেখা থাকলে ব্যবসার আশি ভাগ সমস্যা এমনিতেই চলে যায়।

চারটা জায়গায় টাকা হারায়

১. জিনিস পড়ে থাকা

দোকানের তাকে ছয় মাস ধরে পড়ে থাকা যন্ত্র মানে — জায়গা আটকে আছে, আর ওতে লাগানো পার্টসের টাকাও আটকে আছে। জমার তারিখ লেখা থাকলে "৩০ দিনের বেশি পড়ে আছে" এমন তালিকা বের করা যায়, আর ফোন করে ছাড়ানো যায়।

২. পার্টসের খরচ কাজের সাথে না বাঁধা

পার্টস কেনা হয় এক খাতায়, বিল হয় আরেক খাতায়। ফলে কোন কাজে লাভ হলো তা কেউ জানে না। পার্টস সব সময় জব কার্ডে বসাতে হবে — কেনা দামসহ।

৩. অগ্রিমের হিসাব

অগ্রিম নেওয়া হয়, খাতায় ওঠে না, ডেলিভারির সময় তর্ক হয়। অগ্রিম জব কার্ডের অংশ — এবং বাকি টাকা নিজে থেকেই বেরিয়ে আসা উচিত।

৪. ওয়ারেন্টির কাজ

ওয়ারেন্টিতে ফিরে আসা কাজ আয় নয়, কিন্তু খরচ। এগুলো আলাদা করে চিহ্নিত না থাকলে কারিগরের কাজের মান বা কোন পার্টস বারবার নষ্ট হচ্ছে — কিছুই বোঝা যায় না।

আর এখানেই সবচেয়ে দামি তথ্যটা লুকানো থাকে: যে পার্টস ঘন ঘন ফেরত আসে, সেটা সস্তা নয়।

যে সংখ্যাগুলো মাসে একবার দেখা দরকার

  • গড় কাজের সময় — জমা থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত কত দিন। কমলে ব্যবসা বাড়ে, কারণ কাস্টমার ফেরত আসে।
  • কাজপ্রতি গড় লাভ — বিল থেকে পার্টসের কেনা দাম বাদ দিয়ে।
  • ওয়ারেন্টিতে ফেরত আসার হার — এটা সরাসরি মান পরিমাপ।
  • কারিগরভিত্তিক কাজের সংখ্যা — কে কত কাজ শেষ করছে, কার কাজ ফেরত আসছে।

এসএমএস: ছোট জিনিস, বড় পার্থক্য

কাজ শেষ হওয়ার এসএমএস পাঠানো এই ব্যবসায় সবচেয়ে সস্তা উন্নতি। কাস্টমার আগে আসে, জিনিস কম পড়ে থাকে, ফোনে "হয়েছে কি?" জিজ্ঞাসা কমে।

জব কার্ডে নম্বর থাকলে এটা এক চাপের কাজ।

সফটওয়্যারে যা দেখে নেবেন

  1. জব কার্ড, নম্বরসহ — খুঁজে বের করা যায় নম্বর, নাম বা ফোন দিয়ে।
  2. পার্টস কাজের সাথে বাঁধা — আর পার্টস বসালে স্টক কমে।
  3. অগ্রিম ও বাকি — কার্ডেই।
  4. অবস্থা বদলের তালিকা — কোন কাজগুলো আটকে আছে, এক স্ক্রিনে।
  5. এসএমএস — কাজ শেষে, কার্ড থেকেই।
  6. ওয়ারেন্টি চিহ্ন — ফেরত আসা কাজ আলাদা করে চেনা যায়।

শেষ কথা

সার্ভিসিং ব্যবসা আসলে সময়ের ব্যবসা। যে দোকান জানে কোন কাজে কত সময় আর কত পার্টস গেল, সেই দোকান দাম ঠিক করতে পারে। যে জানে না, সে প্রতিবার আন্দাজে দাম বলে — আর আন্দাজ সব সময় কাস্টমারের পক্ষে যায়, আপনার নয়।

নিজের দোকানে চালিয়ে দেখবেন?

ফ্রি শুরু করুন, অথবা হোয়াটসঅ্যাপে দোকানের কথা বলুন — আমরা এসে সেটআপ করে দিই।