প্রকাশিত · ৭ সেপ্ট ২০২৬
পাইকারি ও ডিলার ব্যবসার হিসাব — রুট, বাকি আর কমিশনের গাইড
খুচরা দোকানের হিসাব আর পাইকারি ব্যবসার হিসাব এক জিনিস নয়। খুচরা দোকানে বেশির ভাগ বিক্রি নগদ, ক্রেতা মুখচেনা, আর বিক্রি হয় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। পরিবেশকের ব্যবসায় প্রায় সব বিক্রি বাকিতে, ক্রেতা মানে আরেকটা দোকান, আর বিক্রিটা হয় রাস্তায় — এসআরের হাতে।
এই তিনটা পার্থক্যই ঠিক তিনটা জায়গা যেখানে টাকা হারায়।
এক: দোকানভিত্তিক বাকি, রুট ধরে
পরিবেশকের আসল সম্পদ হলো দোকানের তালিকা আর প্রতিটা দোকান কত টাকা বাকি রেখেছে তার হিসাব। এই হিসাব যদি এসআরের নিজের খাতায় থাকে, তাহলে ব্যবসাটা আপনার নয় — এসআরের।
যা লাগবে:
- প্রতিটা দোকানের নাম, এলাকা, মালিকের নম্বর আর কোন রুটে পড়ে।
- প্রতিটা দোকানের বর্তমান বাকি, আর শেষ কবে টাকা দিয়েছে।
- বয়স অনুযায়ী বাকি — ৭ দিন, ১৫ দিন, ৩০ দিন, ৬০ দিনের বেশি। ষাট দিনের পুরনো বাকি আর পনেরো দিনের বাকি এক জিনিস নয়, অথচ খাতায় দুটো একই রকম দেখায়।
রুট ধরে বাকির তালিকা বের করতে পারলে এসআরকে সকালে বলে দেওয়া যায় — আজ এই সাতটা দোকান থেকে টাকা আনতে হবে। এটাই আদায় বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ পথ।
দুই: ক্রেডিট লিমিট, দোকান ধরে
প্রতিটা দোকানের জন্য একটা সর্বোচ্চ বাকির সীমা ঠিক করুন। সীমা পার হলে নতুন মাল যাবে না, যতক্ষণ না কিছু টাকা আসে।
এটা কড়াকড়ি নয়, এটা সুরক্ষা। যে দোকান তিন মাস ধরে বাকি বাড়িয়ে যাচ্ছে, সে হঠাৎ একদিন বন্ধ হয়ে যাবে — আর তখন পুরোটাই আপনার লোকসান। সীমা থাকলে ক্ষতিটা আগেই আটকে যায়।
সীমা ঠিক করার সহজ নিয়ম: দোকানটার মাসিক গড় কেনার দেড় গুণ, তার বেশি নয়।
তিন: এসআর কমিশন আর ফেরত মাল
দুটো জিনিস পাইকারি ব্যবসায় নিয়মিত গোলমাল করে:
কমিশন — কমিশন যদি বিক্রির উপর হয়, তাহলে এসআরের লাভ বেশি বিক্রি দেখানোয়, আদায়ে নয়। ফল: বাকি বাড়ে, টাকা আসে না। কমিশনের একটা অংশ আদায়ের উপর রাখলে হিসাবটা নিজে থেকেই ঠিক দিকে যায়।
ফেরত মাল — মেয়াদ শেষ, প্যাকেট ফাটা, বা বিক্রি হয়নি বলে ফেরত আসা মাল। এগুলো লেখা না থাকলে দোকানের বাকির হিসাব কখনোই মিলবে না, আর প্রতিবার এসআরের সাথে তর্ক হবে। ফেরত একটা এন্ট্রি হওয়া দরকার — বিক্রির উল্টো, তারিখসহ।
চার: কোন পণ্যে আসলে লাভ
পাইকারিতে লাভের হার কম — ২ থেকে ৮ শতাংশ। এই হারে একটা পণ্যে ভুল দাম মানে সারা মাসের পরিশ্রম হাওয়া।
কাজেই পণ্যভিত্তিক লাভের হিসাব দরকার: কেনা দাম, বিক্রির দাম, পরিবহন আর ফেরত বাদ দিয়ে হাতে কী থাকল। অনেক পরিবেশকই দেখে অবাক হন যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্যটাই সবচেয়ে কম লাভের।
পাঁচ: সরবরাহকারীর দিকটাও হিসাবের ভেতরে
আপনি কোম্পানির কাছে যা পাওনা, সেটাও একই হিসাবের অংশ। কোম্পানির বিল, পরিশোধ, বকেয়া আর প্রাপ্য ইনসেনটিভ — এসব আলাদা খাতায় থাকলে মাস শেষে আসল লাভ কখনোই বের হয় না।
এক জায়গায় থাকলে প্রশ্নটার উত্তর সহজে মেলে: আজ যদি সব বাকি আদায় হয় আর সব বিল শোধ করি, হাতে কত থাকে?
খাতা দিয়ে কেন হয় না
পাইকারি ব্যবসায় দিনে ৫০–২০০টা লেনদেন হতে পারে, প্রতিটাই বাকি সংক্রান্ত, আর সেগুলো ঘটে তিনটা আলাদা জায়গায় — গুদামে, রাস্তায়, অফিসে। খাতায় এটা রাখা যায়, কিন্তু রুট ধরে বাকির বয়স বের করা, ক্রেডিট লিমিট মেলানো বা কমিশন হিসাব করা যায় না।
সফটওয়্যারে যা যা থাকা দরকার:
- দোকান, রুট আর এসআর — তিনটাই আলাদা করে রাখা যায়।
- বাকির বয়স অনুযায়ী তালিকা।
- ক্রেডিট লিমিট, আর সীমা পেরোলে সতর্কতা।
- ফেরত মালের আলাদা এন্ট্রি।
- ফোনে চলে — কারণ এসআর রাস্তায় থাকে, ডেস্কে নয়।
শেষ কথা
পাইকারি ব্যবসার লাভ বিক্রিতে নয়, আদায়ে। যে ব্যবসায় বাকির বয়স জানা থাকে, সেই ব্যবসা মাস শেষে টাকা দেখতে পায়। যেটায় জানা থাকে না, সেখানে খাতায় লাভ থাকে আর ব্যাংকে থাকে না।
নিজের দোকানে চালিয়ে দেখবেন?
ফ্রি শুরু করুন, অথবা হোয়াটসঅ্যাপে দোকানের কথা বলুন — আমরা এসে সেটআপ করে দিই।