Published · 7 Sep 2026
পোল্ট্রি খামারের হিসাব — এক ব্যাচে লাভ কত, বের করবেন যেভাবে
খামারের হিসাব দোকানের হিসাবের মতো নয়। দোকানে একটা জিনিস কিনে একটা জিনিস বেচেন। খামারে আপনি বাচ্চা কেনেন, ফিড কেনেন, ওষুধ কেনেন, বিদ্যুৎ পোড়ান, শ্রমিকের মজুরি দেন — আর তারপর একদিন মুরগি বিক্রি করেন। মাঝখানে অনেকগুলো খরচ, আর প্রতিটাই একটা ব্যাচের সাথে বাঁধা।
লাভ বের করার একটাই সঠিক নিয়ম: হিসাবটা ব্যাচ ধরে করা। মাস ধরে নয়।
ব্যাচ ধরে হিসাব মানে কী
একটা ব্যাচ শুরু হয় বাচ্চা তোলার দিন, শেষ হয় শেষ মুরগি বিক্রির দিন। এর মাঝের সব খরচ ওই ব্যাচের।
একটা ব্যাচে যা যা লিখতে হবে:
- শুরু — কতগুলো বাচ্চা, কত দামে, কোন হ্যাচারি থেকে, কোন তারিখে।
- ফিড — কত বস্তা, কোন ধরনের (স্টার্টার/গ্রোয়ার/ফিনিশার), কত দামে।
- ওষুধ ও টিকা — তারিখসহ, কারণ পরের ব্যাচে এটাই আপনার সূচি।
- মৃত্যু — প্রতিদিন কয়টা। এটাই খামারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক সংখ্যা।
- অন্যান্য — বিদ্যুৎ, লিটার, গ্যাস, মজুরি, পরিবহন।
- বিক্রি — কত কেজি, কত দরে, কার কাছে, নগদ না বাকি।
এই সাতটা জিনিস লেখা থাকলে ব্যাচ শেষে লাভ-লোকসান আপনা-আপনি বেরিয়ে আসে।
তিনটা সংখ্যা যা আসল অবস্থা বলে
১. এফসিআর (ফিড কনভার্শন রেশিও)
এফসিআর = মোট ফিড (কেজি) ÷ মোট ওজন (কেজি)
এক কেজি মাংস তুলতে কত কেজি খাবার লাগল। ব্রয়লারে ভালো এফসিআর সাধারণত ১.৫–১.৭-এর ঘরে থাকে। ২.০ ছাড়িয়ে গেলে কোথাও সমস্যা — ফিডের মান, পানি, তাপমাত্রা বা রোগ।
খামারের খরচের ৬৫–৭৫ শতাংশই ফিড। তাই এফসিআর ০.১ কমানো মানে সরাসরি লাভ বাড়া।
২. মৃত্যুহার
মৃত্যুহার = মোট মৃত ÷ শুরুর সংখ্যা × ১০০
পুরো ব্যাচে ৫ শতাংশের নিচে থাকলে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি জরুরি হলো কোন দিনগুলোয় মারা গেল — প্রথম সপ্তাহের মৃত্যু বাচ্চার মান বা ব্রুডিংয়ের সমস্যা, শেষ সপ্তাহের মৃত্যু রোগ বা ঘনত্বের।
তাই মৃত্যু প্রতিদিন লিখতে হয়, ব্যাচ শেষে নয়।
৩. কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ
কেজিপ্রতি খরচ = ব্যাচের মোট খরচ ÷ মোট বিক্রিত কেজি
এই একটা সংখ্যাই বলে দেয় বাজারদর কত হলে আপনি লাভে আছেন। যে খামারি এই সংখ্যাটা জানেন, তিনি দাম পড়ে গেলে বুঝতে পারেন কখন বিক্রি করা লাভজনক আর কখন কয়েকদিন অপেক্ষা করা।
লেয়ার খামারের ক্ষেত্রে আলাদা যা
লেয়ারে ব্যাচ শেষ হয় না, চলতে থাকে। তাই হিসাবের একক দিন বা সপ্তাহ:
- হেন-ডে উৎপাদন = দিনের ডিম ÷ জীবিত মুরগি × ১০০
- ডিমপ্রতি খরচ = দিনের মোট খরচ ÷ দিনের ডিম
- ভাঙা ডিম আর ছোট ডিম আলাদা করে লেখা — কারণ দামও আলাদা
খাতায় কেন মেলে না
খামারের খরচ আসে দশটা আলাদা জায়গা থেকে — ডিলার, ওষুধের দোকান, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক। খাতায় সবই লেখা যায়, কিন্তু ব্যাচ শেষে সেগুলো এক জায়গায় এনে ভাগ করা কঠিন, বিশেষ করে যখন দুইটা শেড আলাদা তারিখে শুরু হয়েছে।
ফল: বেশির ভাগ খামারি ব্যাচ শেষে বলতে পারেন কত টাকা ঢুকল, কিন্তু বলতে পারেন না এই ব্যাচে কেজিপ্রতি কত খরচ হলো — আর ওই সংখ্যাটা না জানলে পরের ব্যাচে কী বদলাতে হবে তাও জানা যায় না।
সফটওয়্যারে যা থাকা দরকার
- ব্যাচ বা শেড ধরে সব এন্ট্রি — খরচটা কোন ব্যাচের, সেটা লেখার সময়েই ঠিক হয়ে যায়।
- দৈনিক এন্ট্রি সহজ — ফিড, মৃত্যু, ডিম: তিনটা ঘর, ফোনে, শেডে দাঁড়িয়ে।
- এফসিআর ও মৃত্যুহার নিজে থেকে হিসাব — মানুষ ক্যালকুলেটর চাপবে না।
- ব্যাচ বন্ধ করার হিসাব — শেষে এক পাতায় খরচ, বিক্রি আর কেজিপ্রতি খরচ।
- টিকার সূচি — তারিখ এলে মনে করিয়ে দেওয়া।
শেষ কথা
খামারের লাভ ঠিক হয় বাজারদরে, কিন্তু টিকে থাকা ঠিক হয় খরচে। কেজিপ্রতি খরচ যিনি জানেন, তিনি খারাপ বাজারেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যিনি জানেন না, তিনি প্রতিবার আশা নিয়ে ব্যাচ তোলেন — আর সেটা ব্যবসার কৌশল নয়।
Ready to try it in your own shop?
Start free, or tell us about your shop on WhatsApp and we come and set it up.