টাকা ও কাগজপত্র · ৫ মিনিটের পড়া
বিআইএন বসানো আর মূসক ৬.৩ চালান
চালান বৈধ হতে কী কী লাগে, দাম ভ্যাটসহ না ভ্যাট ছাড়া, আর হার-ভিত্তিক সারসংক্ষেপে কী থাকে।
ভ্যাটের অংশটা একবার বসিয়ে দিলে আর হাত দিতে হয় না। কিন্তু একবার ঠিক করে বসাতেই হয় — ভুল বসানো থাকলে প্রতিটি চালান ভুল ছাপবে, আর সেটা টের পাওয়া যাবে অনেক পরে।
যে চারটে ঘর ভরতেই হবে
সেটিংসে ভ্যাট ও চালানের অংশে যান:
- বিআইএন — আপনার ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর। বিআইএন ছাড়া মূসক ৬.৩ চালান বৈধ কাগজ নয়। এটাই সবচেয়ে জরুরি ঘর, আর এটাই সবচেয়ে বেশি খালি থাকে।
- ভ্যাটে নিবন্ধিত নাম — ভ্যাট নিবন্ধনে যে নাম আছে, হুবহু সেটাই। দোকানের সাইনবোর্ডের নাম আলাদা হলেও এখানে নিবন্ধনের নামটাই বসবে।
- ঠিকানা — নিবন্ধনের ঠিকানা।
- স্বাভাবিক ভ্যাটের হার — নতুন পণ্যে যেটা নিজে থেকে বসবে। আলাদা হারের পণ্য থাকলে সেই পণ্যেই আলাদা করে বসিয়ে দিতে পারবেন।
বিআইএন বসানো না থাকলে সেটিংসের স্ক্রিনেই হলুদ সতর্কবার্তা দেখতে পাবেন।
দাম ভ্যাটসহ, না ভ্যাট ছাড়া
এই একটা সুইচ ভুল হলে সব হিসাব উল্টে যায়, তাই ভালো করে বুঝে নিন।
বাংলাদেশের খুচরা দোকানে দাম প্রায় সবসময় ভ্যাটসহ। তাকের গায়ে ১১৫ টাকা লেখা মানে ক্রেতা ১১৫ টাকাই দেবেন — তার ভেতরেই ভ্যাট ধরা আছে। এমন হলে "দামে ভ্যাট ধরা আছে" চালু রাখুন। সিস্টেম ১১৫ থেকে ভ্যাট আলাদা করে বের করে নেবে, আনুমানিকভাবে নয় — হিসাব করে।
পাইকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিক্রিতে অনেক সময় দাম হয় ভ্যাট ছাড়া, ভ্যাট যোগ হয় বিলের নিচে। তাহলে সুইচটা বন্ধ রাখুন।
একই দোকানে দুই রকম হলে? তাকের নিয়মটাই বসান — যেটা দিনে বেশিবার ঘটে। পাইকারি বিলে দরকার হলে বিলের সময় বদলে নেওয়া যায়।
সম্পূরক শুল্ক থাকলে
কিছু পণ্যে সম্পূরক শুল্ক বসে। মনে রাখার কথা একটাই — সম্পূরক শুল্ক আগে বসে, ভ্যাট বসে তার উপরে, পাশে নয়। সিস্টেম এভাবেই হিসাব করে, তাই আপনার আলাদা কিছু করার নেই। ভুলটা তখনই হয় যখন কেউ হাতে হিসাব মেলাতে গিয়ে দুটোকে পাশাপাশি বসিয়ে ফেলেন।
হার-ভিত্তিক সারসংক্ষেপ
রিপোর্টের নিচে ভ্যাটের স্ক্রিনে যে সারসংক্ষেপটা আছে, সেটাই ভ্যাট অফিসের চাওয়া জিনিস। প্রতিটি হারের জন্য আলাদা সারি — কত টাকার বিক্রি ওই হারে হয়েছে, আর তাতে কত ভ্যাট।
পাঁচ শতাংশ আর পনেরো শতাংশ মিলিয়ে একটা মোট সংখ্যা দিলে চলে না, কারণ তা থেকে হার আলাদা করা যায় না। এইজন্যই এটা হার-ভিত্তিক।
ছাড় দিলে কী হয়? ছাড় মূল্য কমায়, তাই ভ্যাটও কমে। পুরো বিলে একসঙ্গে ছাড় দিলে সেটা লাইনগুলোর মধ্যে তাদের দামের অনুপাতে ভাগ হয়ে যায় — এটা না হলে হার-ভিত্তিক সারসংক্ষেপ কখনও মিলত না।
মাস শেষে
ভ্যাটের স্ক্রিনে মাসটা বেছে নিন, আর সারসংক্ষেপটা নামিয়ে নিন। এটাই আপনার দাখিলপত্র তৈরির কাঁচামাল।
একটা অভ্যাস করে ফেলুন — মাস শেষের এক সপ্তাহ আগে একবার দেখে নিন। কোনো পণ্যে ভুল হার বসানো থাকলে তখনও ঠিক করার সময় থাকে। শেষ দিনে দেখলে আর সময় থাকে না।
এই স্ক্রিনটা সব অ্যাপ্লিকেশনে একইভাবে চলে, তাই গাইডটা সবার জন্য একবারই লেখা।
আসল কাজে নামার আগে দেখে নিন
মাসের পর মাসের বেচাকেনা ভরা একটা ডেমো ওয়ার্কস্পেস খুলুন আর ধাপগুলো ওখানেই করে দেখুন। ওখানে যা করবেন, নিজের দোকানে তার কিছুই লাগবে না।
ডেমো খুলুন